•  

    করোনাকে ভয় না পেয়ে করোনা প্রতিরোধে নিজেকে প্রস্তুত করুন

                                                              

    করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের করনীয়

    SARS-CoV-2 (নভেল করোনাভাইরাস) এর জীবাণুতে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। যদিও ইতোমধ্যে ভাইরাসটি অনেক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তবে কোভিড-১৯ রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যাবার সংখ্যাটাই বেশি। আবার ভাইরাসটি যেসব দেশকে ইতোমধ্যেই আক্রান্ত করেছে, সর্বত্র সমান ভাবে জীবনের ক্ষতি করেনি। উদাহরণ সরূপ বলা যায় ইউরোপের কথা। সেখানে বিভিন্ন দেশে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক সমান হলেও সুস্থ ও মারা যাবার অনুপাত দেশগুলিতে ভিন্ন। যেমন স্পেন ও ইতালিতে তুলনামূলক যে ভাবে মানুষ মারা গেছে, জার্মানিতে তেমনটি হয়নি। জার্মানিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত রোগী মারাত্মক উপসর্গ প্রকাশ করেননি এবং ধীরে ধীরে বাসাতে থেকেই স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুতরাং এই রোগকে ভয় না, বরং কিছুদেশে কি কারনে এটি তুলনামূলক কম প্রাণহানি করেছে সেটি গবেষণা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতামূলক প্রতিরোধ এর প্রস্তুতি নিতে হবে। উল্লেখ্য ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে খুব দ্রুত ছড়াতে পারে তাই বাংলাদেশের মত উচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ দেশে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আমাদেরকে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভয় না পেয়ে অথবা সামাজিকভাবে হেয় না করে তাকে এবং তার পরিবারকে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সাহস দিতে হবে। ভয়, আতঙ্ক এবং আশঙ্কা আমাদের মনে ও মস্তিষ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, এবং আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    ছবিঃ শরীরের জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলি কমিয়ে মারাত্মক কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

    আমাদের দেশে প্রতিদিন কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ভাইরাসটি মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ইতমধ্যেই নিয়েছে। এই ভাইরাস প্রতিরোধ একক বাক্তি, সংস্থা বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। করোনা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে এখন পর্যন্ত ৬০ টির বেশি ভ্যাক্সিন তৈরির প্রকল্প শুরু হয়েছে (৪র্থ এপ্রিল, ২০২০, WHO)। উল্লেখ্য ভ্যাক্সিন আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষাকে নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে জয়ী করতে সাহায্য করে। তবে ভ্যাক্সিন তৈরির এই প্রকল্পগুলির সুফল বিশ্বব্যাপী  সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। সুতরাং বাস্তবচিন্তা করলে কোভিড-১৯ থেকে চলমান মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি থামাতে ভ্যাক্সিন আমাদের বর্তমান এবং নিকট ভবিষ্যতের সমাধান নয়। এমতাবস্থায় আমাদেরকে আমাদের সাধারণ শারীরিক প্রতিরক্ষা (immune system) ব্যবস্থার উন্নতি করা অত্যাবশ্যকীয়। যেহেতু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাথমিক উপসর্গ থাকতে পারে আবার নাও পারে সেজন্য সম্ভাব্য রোগী খুঁজে পাওয়াটা ক্ষেত্রবিশেষে কঠিন। সেজন্য সর্বসাধারণকেই কোভিড-১৯ মোকাবেলায় শারীরিক প্রতিরক্ষা বাড়িয়ে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এখন থেকেই, এমনকি রোগের কোন উপসর্গ না থাকলেও এবং সুস্থ অনুভাব করলেও।  

    উপসর্গের উপর ভিত্তি করে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগীকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে ১) প্রাথমিক ২) মধ্যম এবং ৩) মারাত্মক। প্রাথমিক উপসর্গ যেমন সর্দি, গলাব্যাথা কখনও কখনও অপ্রকাশিত থাকতে পারে। মধ্যম অবস্থা প্রাথমিক এবং পরবর্তী পর্যায়ের মাঝামাঝি অবস্থা এবং এক্ষেত্রে রোগী মৃদু শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারেন। বিশ্বের অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক এবং মধ্যম অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেন। এর মধ্যে যারা মারাত্মক কোভিড-১৯ পর্যায়ে উপনীত হন তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে রোগী মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন। কিন্তু সকল কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ মধ্যম পর্যায় থেকে মারাত্মক অবস্থায় পরিবর্তন হয়না।

    ফুসফুসে রাসায়নিক পরিবর্তন ও প্রদাহ

    প্রথমে জেনে নেই মানুষের ফুসফুসে ভাইরাসটি রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে কি ধরেনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। রোগের প্রাথমিক এবং মধ্যম পর্যায়ে ফুসফুসে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে এমন ফ্যাক্টর যেমন টি এন এফ আলফা (TNF- α), এন এফ কাপ্পা বিটা (NF-kβ), বিভিন্ন সাইটোকাইন যেমন IL-1, IL-1ß, IL-6, IL-8, IL-12 এর পরিমান বেড়ে যায়। কিন্তু এগুলি আরও অতিমাত্রায় বেড়ে যায় মারাত্মক কোভিড-১৯ রোগীর ক্ষেত্রে1। ১৩০২ জন কোভিড-১৯ রোগীর উপরে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রদাহ তৈরিকারি সাইটোকাইন IL-6 এর পরিমাণ মারাত্মক কোভিড-১৯ রোগীর রক্তে প্রায় তিন গুন বেশী থাকে2। এই ফ্যাক্টর গুলি যেহেতু ফুসফুসে প্রদাহ করতে পারে, মারাত্মক কোভিড-১৯ এ তাদের অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা প্রদাহ অনেক গুনে বাড়িয়ে দিতে পারে। এধরনের অনিয়ন্ত্রিত প্রদাহ ফুসফুসসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে অকেজো করে দিতে পারে, যাকে বলা হয় সেপ্টিক সক। এখন পর্যন্ত দেখা গেছে বড় একটা অংশের মারাত্মক কোভিড-১৯ রোগী সেপ্টিক সক এ মারা গেছেন3

    প্রদাহ উদ্দেপনাকারি এসব ফ্যাক্টরগুলির মাত্রা ওষুধ দিয়ে কমিয়ে (উদাহরণঃ TNF- α এবং NF-kβ inhibitor,  IL-1 inhibitor, IL-6 inhibitor) রোগটি বাবস্থাপনা করা যেতে পারে কিনা তা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার (clinical trial) মাধ্যমে দেখার জন্য গবেষকদের পরামর্শ থাকছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেটি ইতমধ্যেই শুরু হয়েছে. রোগীকে ওষুধ এর মাধ্যমে সুস্থ করাটা নির্ভর করবে কত আগে থেকে তা প্রয়োগ করা হয়েছে তার উপর। রোগটির শুরুতেই না প্রয়োগ করে শুধুমাত্র মারাত্মক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার পরে এধরনের ওষুধের যথেষ্ট প্রতিষেধকমূলক প্রভাব না থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

    যেহেতু কোভিড-১৯ এর উপরে আমাদের জ্ঞান এখনও সীমিত কিন্তু দৈনিক আমরা অনেক প্রাণ হারাচ্ছি। তাই শরীরের প্রদাহ কমাতে পারে এমন যে কোন স্বাভাবিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে কিনা এবং প্রাথমিক অথবা মধ্যম পর্যায় থেকে রোগটির মারাত্মক পর্যায়ের পরিণতিতে বাধা দিতে পারে কিনা তা যথাযথ বিশ্লেষণ করে দেখার প্রয়োজন।

    প্রথমে আমাদের জানতে হবে আমাদের সাধারণ জনগণ কি রকম ঝুঁকিতে থাকতে পারেন কোভিড-১৯ এর মারাত্মক পর্যায়ের উপসর্গ দেখা দিতে এবং প্রয়োজনীয় কি ধরনের সম্ভাব্য সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে।

    ভিটামিন ডি

    পূর্বের গবেষণাগুলি ভিটামিন ডি কমার সাথে সাথে শরীরে প্রদাহ তৈরি করার ফ্যাক্টর গুলি বেড়ে যাওয়ার একটি সম্পর্কের কথা বলেছে7। উল্লেখ্য কোষের ভিটামিন ডি তৈরি ও ব্যাবহার ক্ষমতা বয়স বাড়ার সাথে সাথে  কমতে থাকে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়8

    ভিটামিন ডি এর ঘাটতির সাথে করোনায় মৃত্যুর একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে। উদাহরণ সরূপ সুইডেন এর স্টকহোম এ যারা মারাত্মক কোভিড-১৯ এ মারা গেছেন তাদের ৪০% সোমালিয়ান অভিবাসী। কিন্তু তারা শহরটির জনসংখ্যার মাত্র ০.৮৪%। সোমালিয়ান জনসাধারণের উপরে পূর্বের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সেই গবেষণায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ৭৩% মানুষ ভিটামিন ডি এর ঘাটতিতে  (<২৫ nmol/L) ভুগছেন । সাম্প্রতিক মারাত্মক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এমন ৭০০ জন ইতালীয় নাগরিকদের নিয়ে আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সবার-ই রক্তে ভিটামিন ডি (<২৫ nmol/L) এর ঘাটতি ছিল13। সুতরাং ভিটামিন ডি এর ঘাটতি এবং মারাত্মক কোভিড-১৯ এর একটা সম্পর্ক থাকতে পারে যা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে আরও ভালভাবে জরুরী বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

    প্রশ্ন হল আমাদের দেশে ভিটামিন ডি এর ঘাটতির প্রকোপ কেমন? ২০১৯ সালে ডঃ ইসলাম এবং তাঁর সহকর্মীরা ৭৯৩ জন বাংলাদেশী মানুষের (বয়সঃ ২১ থেকে ৬০ বছর) উপরে একটি গবেষণা করেন যেখানে তারা গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের রক্তের প্লাসমাতে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা দেখতে পান যে  গবেষণায় অংশ নেয়া ৬১.৪% মানুষ ভিটামিন ডি এর অভাবে ভুগছেন এবং ২৪.১% মানুষের রক্তের প্লাসমাতে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ স্বাভাবিক প্রয়োজনের তুলনায় কম আছে14। যদিও ভবিষ্যতে এধরনের গবেষণা আরও বড় জনসাধারণ সংখ্যা নিয়ে দেখা দরকার, তবে এই সুন্দর গবেষণাটি আমাদের একটি ধারনা দেয় যে আমাদের দেশে বড় একটি জনসংখ্যার  মধ্যে ভিটামিন ডি এর একটি বড় রকমের ঘাটতি থাকতে পারে।

    এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ না করলে এবং উপরের অনুমান সত্য হলে দেশের বড় একটি জনসংখ্যা মারাত্মক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার ঝুকিতে পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন, এবং রক্তে ভিটামিন ডি কম থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিন। শরীরের ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট একটি নিরাপদ এবং সহজ উপায়।

    ভিটামিন সি

    ভিটামিন সি কোভিড-১৯ এর বিরদ্ধে যুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিটামিন সি মারাত্মক কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি সম্ভাব্য কমাতে পারে এমন একটি তথ্য ১৬৭ জন্য রোগীকে নিয়ে একটি অতি সাম্প্রতিক আমেরিকান একটি গবেষণায় উঠে এসেছে15। ইতমধ্যেই মারাত্মক কোভিড-১৯ এর প্রতিকারে ভিটামিন সি এর ভূমিকা বুঝার জন্য একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (clinical trial) শুরু হয়েছে16। যেহেতু ভিটামিন সি সহজলভ্য, আমরা কোভিড-১৯ এর সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য সতর্কতামূলকভাবে আমাদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে পারি।

    ভিটামিন ই

    গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণত ভিটামিন ই এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে মানুষের শরীরে প্রদাহ কমাতে17। প্রতিরক্ষামূলকভাবে প্রদাহ কমিয়ে মারাত্মক কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত খাবারে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার যোগ করার জন্য জোরাল উপদেশ রইল।

    রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান

    যদিও নভেল করোনাভাইরাস টি একটি নতুন ধরনের ভাইরাস, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পরে কোষের ভিতরে যে প্রক্রিয়ায় প্রদাহ (inflammation) তৈরি হয়, সেটিতে এর নিজস্বতার পাশাপাশি আমাদের অতিসাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এটির সাথে অন্যান্য ফ্লু ভাইরাসের (উদাহরণঃ ইনফ্লুয়েঞ্জা) অনেকটা সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছি18। তাছাড়াও সাম্প্রতিক গবেষণাতে দেখা গেছে কিছু কোভিড-১৯ রোগীর ফুসফুসে SARS-CoV-2 ভাইরাসের জীবাণুর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সহবাস করতে পারে19। উল্লেখ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপরে ইতোমধ্যেই অনেক বিস্তর গবেষণা আছে যেগুলি আমাদের কিছুটা হলেও সাহায্য করবে কোভিড-১৯ এ প্রদাহ তৈরিতে অন্যান্য ঝুঁকি গুলি সম্পর্কে ধারনা পেতে। অতিসাম্প্রতিক একটি গবেষণায় একদল গবেষক দেখিয়েছেন যে, যেসব ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগীর রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান বেশি তারা বেশি প্রদাহ তে ভুগেন এবং তাদের শরীরে ভাইরাসের প্রভাব বেশি বিস্তার করে20। সুতরাং এটি অনুমেয় যে, রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ বেশি থাকলে মারাত্মক কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি থাকতে পারে। এর সাথে মিল রেখে যে সব রোগীর ডায়বেটিস আছে তারা মারাত্মক কোভিড-১৯ এর ঝুঁকিতে থাকতে পারেন21। এক্ষেত্রে অবশ্যই  কোভিড-১৯ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সবার প্রতি বিশেষ পরামর্শ থাকল।

    কম কার্বোহাইড্রেট, বেশি চর্বিযুক্ত (ভাল চর্বি) খাবার

    আমরা জাতীয়ভাবে খাবারে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমান খুব বেশী রাখি। এধরনের খাদ্য অভ্যাস রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে খাদ্য অভ্যাসে পরিবর্তন না আনলে আমাদের বড় একটি জনসংখ্যা মারাত্মক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।  

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে কম কার্বোহাইড্রেট এবং বেশি ভাল চর্বিযুক্ত খাবার রক্তে গ্লুকোজ কমাতে পারে এবং শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেসন কমাতে সাহায্য করে। আমরা আমাদের গবেষণায় প্রাথমিক ফলাফলে দেখেছি এধরনের খাবার ভাইরাস সংক্রমণের পরবর্তীতে প্রদাহ কমাতে কার্যকরী হতে পারে18। সেক্ষেত্রে এমন খাদ্য অভ্যাস খাদ্য নিয়মে আনা যেতে পারে। তবে এধরনের খাবার সঠিকভাবে নির্বাচনে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ এর পরামর্শ নিন।

    শারীরিক ব্যায়াম

    শরীরের রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ কমানোর আরেকটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে দৌড়ান। এক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা মেনে ঘরের বাহিরে না যেয়ে বাসার ছাদে অথবা ঘরের মধ্যে সীমিত জায়গায় treadmill এর মত মনে করে দৌড়ান যায়। বয়সের কারনে অথবা শারীরিক অসুস্থতার কারনে দৌড়াতে না পারলে, বেশি করে হাঁটা যেতে পারে।  নিয়মিত ব্যায়াম করলে মনে প্রচ্ছন্ন আনে, শরীরের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায়, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং এমনকি আমাদের মস্তিষ্কের মনে রাখার সক্ষমতাও বা মেমোরি বাড়ায়24। যেহেতু আমরা বাসাবাড়িতে এ সময় বেশি থাকছি, এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের সম্ভাব্য মানসিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও নিয়মিত ব্যায়াম একটি বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে।

    যেহেতু ভয় আশঙ্কা আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে, শারীরিক প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়, সুতরাং এগুলি এড়িয়ে চলতে হবে। পরিমিত বিশ্রাম ও ঘুম আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

    সুতরাং আসুন, আমরা রোগটিকে ভয় না করে বরং তাকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নেই। মনে রাখবেন করোনা আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়। সেই সাথে মারাত্মক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার ঝুঁকিগুলি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা হয়ত অনেকাংশে রোগটিকে প্রতিহত করতে পারব।

    মোঃ রেজাউল ইসলাম, PhD

    ওয়েবসাইটঃ  http://mdrezaulislam.com/

    জার্মান মস্তিষ্করোগ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র

    গটিঙ্গেন, জার্মানি।

Comments

  •  
    icon

    Sabrina says (Apr 23, 2020):

    Thanks for sharing this very informative article.

Post Comments

This website is created and hosted by Website.com's Site Builder.